বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক প্রতিবেদনে তিনি জানান, গাজায় প্রায় ৮৫ হাজার টন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার ছয়গুণ শক্তিশালী। তিনি বলেন, গাজা আজ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যার মুখোমুখি।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞে ইসরাইলকে অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড পরিমাণ লাভ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, গত ২০ মাসে ইসরাইলকে দেওয়া অস্ত্রের ফলে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার দর ২১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, “একজন মানুষ লাভবান হয়েছে, অন্যজন ধ্বংস হয়েছে।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৭ হাজার ১৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯২ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১১৮ জন, আহত ৫৮১ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন ত্রাণকেন্দ্রে যাওয়া সাধারণ মানুষ। এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত ত্রাণপ্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।
ফ্রান্সেসকা আলবানিজ আরও জানান, ইসরাইলের জন্য গাজা এখন একটি পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে—নতুন অস্ত্র, নজরদারি সিস্টেম, প্রাণঘাতী ড্রোন এবং রাডার প্রযুক্তি পরখ করার এক নিষ্ঠুর মঞ্চ। তিনি ৪৮টি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলেন, এরা প্রত্যক্ষভাবে ‘দখলদার অর্থনীতির’ সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্ববাসীর নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই গণহত্যা এতই প্রকাশ্য ও সরাসরি সম্প্রচারিত যে অজ্ঞতা বা আদর্শগত অন্ধত্বের অজুহাত এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।”
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলবানিজ বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক স্থগিত করতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি বিশ্বব্যাপী ট্রেড ইউনিয়ন, আইনজীবী, নাগরিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান—গণহত্যা বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান












